ক্লোরোfeel-এর পাতা

Showing posts with label নাTALK. Show all posts
Showing posts with label নাTALK. Show all posts

Wednesday, 1 March 2017

'বিভাজন' নাটকটি প্রসঙ্গে : দীপ্র দত্তশর্মা



'চোখ' এর উপস্থাপনায় 'খুন' দেখেছিলাম ঠিক বছর আগে...আমার দেখা প্রথম বড় মঞ্চের নাটক...শক্তিশালী এই গণমাধ্যমের প্রেমে মজে পরবর্তী ৩৬৫ দিনে নাটক দেখেছি অল্প বিস্তর...সেই সামান্য অভিজ্ঞতা আর ভালো নাটকের অনস্বীকার্য আকর্ষণেই আজ সন্ধ্যায় আমাদের মধুসূদন মঞ্চে জড়ো হওয়া...

'চোখ' এর উপস্থাপনায় 'বিভাজন' এই সময়ের প্রেক্ষিতে বড় জরুরি নাটক...বড় যত্নে নাটক বানান অভিজিৎ বাবু...প্রত্যেক চরিত্রের অভিনয়েই সেই যত্নের ছাপ স্পষ্ট...বিশেষত অসাধারণ লেগেছে 'তিন্নি' আর 'রহমান' কে...ওদের স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয় চোখে লেগে থাকবে...

আবহ নির্মাণ চমৎকার, quotation প্রয়োগ যথাযথ...মঞ্চসজ্জায় বিশেষ পরিশ্রমের ছাপ খুব একটা চোখে পড়ল না বটে, কিন্তু আলোর ব্যবহারে মুন্সিয়ানা নজর কাড়ে...দীর্ঘ monologue-গুলোও অভিনয়ের চমৎকারিত্বে boring হয়ে ওঠার সুযোগ পায়নি কখনও...

একটাই দুঃখ...Storyline ঠিক জমল না 'খুন' এর মতো...ঘটনা প্রবাহ বেশ predictable, 'জোজো' পরিণতিটাও বড্ড আরোপিত...সর্বোপরি...'মৈত্রেয়ী' চরিত্রটি আমার মতে সবচেয়ে interesting, একটা অদ্ভুত bipolarity তে ভোগেন এই মহিলা...যাদেরকে-যাদের ধর্মাচরণকে মনে-প্রাণে ঘৃণা করেন তিনি, তাদের মধ্যে বিশেষ একজনের প্রতিই তার অপরিসীম স্নেহ!!...এমন একটা special চরিত্র আরও space পেল না কেন?

এই সামান্য অনুযোগের পরও বিনম্র ভাবে আবার স্বীকার করে নিচ্ছি...'বিভাজন' এই সময়ে বড় জরুরি নাটক...অসহিষ্ণুতা, কাশ্মীর প্রসঙ্গ, surgical strike, ব্লগার হত্যার অস্থির পরিস্থিতিতে প্রশ্ন করা বড় জরুরি...কিন্তু, "আমি প্রশ্ন করতে ভয় পাই"..., তার পরও 'গণতান্ত্রিক বন্দিেত্ব' এই শৃঙ্খল স্নেহ দিয়ে গলিয়ে দেওয়ার স্বপ্ন দেখায় এই নাটক...'চোখ' এর 'বিভাজন'কে তাই কুর্নিশ...

Saturday, 7 January 2017

বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনীর 'বেহুলা লখিন্দর পালা' - একটি অভিনব প্রয়াস : অতনু বর্মন

এই নাটকের চরিত্ররা সকলেই পুতুল। পুতুল সাজা মানুষ। স্বাভাবিকভাবেই এরা কথা বলেনা, কোনওরকম অভিব্যক্তি, এমনকী চোখের পলকও পড়েনা এদের। নেপথ্যে চলে সংলাপ, গান, বাজনা। সাধারণত পুতুলনাটক বলতে আমরা যা বুঝি, অর্থাৎ সুরেশ দত্ত মশাইয়ের হাতে যা বিশ্বজয় করেছে এ নাটক তাও নয়। এ এক বিলুপ্ত অধ্যায়। গ্রামবাংলার হারিয়ে যাওয়া স্মৃতির মঞ্চায়ণ।

একদা বাংলার গ্রামে গ্রামে মেলায় মেলায় পড়ত পুতুলনাচের তাঁবু। হুবহু তারই অনুকরণে বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনী মঞ্চের ওপর তৈরি করে নেন আরও একটি মঞ্চ, যা থিয়েটারের নয়, পুতুলনাচের আসরের মঞ্চ। তারপর চোখের সামনে ঘটতে থাকে এক অভাবিত অতীতায়ন। দর্শক পৌঁছে যান বাংলার মেলার মাঠে। তাঁবুর ভেতর একদা যে বিনোদন ছিল একান্ত প্রাণের।

গ্রামীণ সেই পুতুলনাচের আসরে সবথেকে জনপ্রিয় ছিল মনসামঙ্গল। বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনীর মঞ্চসেনারা বেছে নিয়েছেন সেই অতিপরিচিত গল্পটিকেই। বেহুলা লখিন্দরের গল্প সকলেরই জানা। যা জানা ছিল না তা এই যে, এভাবেও মানুষকে পুতুল বানিয়ে প্রযোজনা সম্ভব। প্রায় ২০০ অভিনয়ের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছনো এই নাটকটির নৃত্য নির্মাণ করেছেন অন্বেষা ঘোয়। অন্বেষা এই নাটকের মূল চরিত্র বেহুলার ভূমিকাটিও সযত্নে পালন করেছেন। নাটক নির্মাণ ও সামগ্রিক প্রয়োগের কাজটি করেছেন উজ্জ্বল মুখোপাধ্যায়। সুর বেঁধেছেন অশোক দাস, সনৎ মুখোপাধ্যায় ও কার্তিক দাস বাউল।

প্রকৃতপক্ষে বাংলার পুতুলনাচ বহুধাবিস্তৃত। এখানে যে রীতিটিকে নেওয়া হয়েছে তা একান্তভাবেই সুতোয় বাঁধা পুতুলের নৃত্যভঙ্গিমা। সুতোর টানে পুতুলগুলোর কাঠ-কাঠ অঙ্গ সঞ্চালন যেমনটি হওয়া উচিত বা হত একদা, এই নাটকে তার অবিকল প্রতিরূপ দেখে নস্টালজিক হয়ে উঠবেই যেকোনও মধ্যবয়স্ক মন। আর এই প্রজন্ম, যারা কোনওদিনই দেখতে পাবে না সেই পুতুলনাচের আসর, তাদের কাছেও এ এক ঐতিহাসিক দলিল।

বীরভূম সংস্কৃতি বাহিনীর বেহুলা লখিন্দর পালায় নানান পুতুলের ভূমিকায় সুতোর টানে নাচলেন যারা, তাদের মধ্যে রূপা সুতার, হর্ষিতা ঘোষ, সন্দীপ রায়, কাজি খাইরুল ইসলাম, কাজি মেহেবুব ইসলাম, তুফান কোনাররা অনবদ্য। এরাই আবার নেপথ্যে গিয়ে গানও গাইলেন। কাজল মুখার্জীর ঢোলের বোলে আর প্রিয়ব্রত চক্রবর্তীর হারমোনিয়ামের সুরের তালে আলোর মায়া ছড়ালেন খাইরুল ইসলাম। সমস্ত ব্যাপারটাই কিছু হল অন্তত তিরিশবছর পিছিয়ে গিয়ে। বেহুলা লখিন্দর পালা দেখতে দেখতে মনে হচ্ছিল মোবাইল ফোন এখনও আসেনি, এখনও বিজয়ার পোস্টকার্ডে আসে শুভেচ্ছাবার্তা, সময়টা আশির দশকের শুরু অথবা তারও আগে সত্তরের মেঠো আলপথ ধরে মেলা দেখতে গিয়ে পুতুলনাচের আসর ফেরত মানুষ আমরা, হাতে যেন লেগে রয়েছে এখনও মেলার পাঁপড়ভাজার ছাঁচি তেল।